কবি সাকিরা পারভীন সুমা

কবিতায় সাকিরার বসবাস

Spread the love
Reading Time: 29 minutes

সাকিরা পারভীন, সদা তরুণ প্রাণোচ্ছল এক মানুষ। যার চোখের কোণে শতশ্রু জমা হলেও ঠোঁটের কোণে আছে নিবিষ্ট ভালোবাসার হাসি আর আদর। মানুষ তাকে সহজেই ভালোবাসে। সহজেই মানুষও পায় তার ভালোবাসা। এসবের বাইরে বোকাবিডি তার পাঠকদের কাছে আজ অন্য এক সাকিরার কথা বলবে। তার জন্যই বোকার বাঁকে এবারের অতিথি সাকিরা পারভীন সুমা

সাকিরা পারভীন বর্তমানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এন্ড মিডিয়া বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। শিক্ষকতা করলেও তার ধ্যানে জ্ঞানে গান আর কবিতা। বলা চলে গানে-কবিতায় তার বসবাস। কথা বলবার সময়ও কতো কতো কবিতা-গানে মুখর! মজার ব্যাপার হলো সাকিরার ক্লাস মানেই কবিতা দিয়ে অনুধাবন আর গান দিয়ে পরিস্ফুটন। এমন করে আর কাউকে আমি ক্লাস নিতে দেখিনি। তাই হয়তো বোকার আগ্রহ সাকিরার কবিতা নিয়ে।

অনেক অনুরোধের পর সাকিরা পারভীন বোকার পাঠকদের ১৫টি কবিতা উপহার দিয়েছেন। তাপমাত্র, সম্পর্ক, বিক্রিবাট্ট, জানালা, মহাকালের গর্ভে নিপতিত হই-৪, ঘৃণা, আর কোনো কাজ থাকতে পারেনা কবির, তোমার সময় সময়ের চেয়ে দামি, কমরেড, নিয়তি, বৃক্ষ সমাচার-৪, সাহিত্য সম্পাদক, অথৈ পুরাণ, ছুমন্তর এবং রং শিরোনামের কবিতাগুলো কেবল বোকাদের জন্য নিচে তুলে দেয়া হলো।

তাপমাত্রা
তাপমাত্রা
মাইনাস ত্রিশ ডিগ্রি সেল্সিয়াস
আঙুলে গ্লবস পরেই বেরিয়েছি

কিছু একটা পতনের শব্দ শুনলাম
আঁটোসাটো ইনগেইজমেন্ট রিং, নয়তো!
এতটা নির্দয় হবেনা শীতকাল

বাড়িতে ফিরে দেখি
অণামিকার একাংশ খসে গেছে

সকলেই বলল
না বুঝেই
বরফের কামড় খেয়েছে। 

কবিতাগুলো পড়বার ফাঁকে ফাঁকে তার কবিতায় বসবাস নিয়ে একটা আলাপ চালিয়ে যেতে চাই। এই আলাপে সাকিরাকে প্রশ্ন করেছেন, মেহেদী হাসান স্বাধীন।

প্রশ্ন শুরু করবার আগে আরো একটি কবিতা পড়তে চাই। সম্পর্ক নিয়ে লিখেছেন সাকিরা পারভীন। কী লিখেছেন, চলুন পড়েই দেখি!

সম্পর্ক

কুয়োটার জল ক্রমশ পাতালের দিকে নেমে যাচ্ছে।
আর আমরা বালতির দড়ি জোড়া দিয়ে দিয়ে প্রসারিত করছি
জল তুলে আনার পথ।
ভেতরে খরা জন্ম নিলে অঝোর বর্ষায় অঙ্কুরিত হবে না বীজ।

অতএব ফসল না ফলানোর অপরাধ
সকল সময়
কৃষকের ওপর না দেয়াই ভালো।

পরপর সাজাতে চাই বিক্রিবাট্টা আরা জানালা কবিতা দুটিকে। আমি হরহামেশায় বিক্রি করছি নিজেকে আর হরহামেশায় জানালার দিকে তাকিয়ে আছি। এই শব্দগুলোতো আমার সাথে মিলেই যায়…

বিক্রিবাট্ট

ভর দুপুরে রাস্তার পাশে
ফুটপাত দখল করে
বসে আছে কয়েকটি তরতাজা তরমুজ ।
বিক্রেতার অনুাপস্থিতি
তরমুজের দরদাম
রঙ স্বাদ নিয়ে শংশয় ভীতি
এসব সত্ত্বেও দু’চারটা তরমুজ
বিক্রি হয়ে গেল।
ইফতার, ককটেল অথবা উপঢৌকণ স্বরুপ
টুকরো কিংবা পুরো তরমুজের উপস্থিতিতে
উৎসব মুখর হয়ে উঠল
এবারেব এপ্রিল।

শুধু খারাপ লাগছে
এই ভেবে যে কৃষ্ণচুড়া ফোঁটার আগেই বিক্রিবাট্টা শেষ হয়ে গেল।

জানালা

জানালাগুলো খোলাই থাকে আজকাল
হুহু বাতাস ঢুকতে পারে ঘরে
দরজায়
পর্দাগুলোর বুকে আঁকা পাখিরা
উড়ে উড়ে চলে যাচ্ছে এদিকে ওদিকে
হুহু বাতাসের দিকে

একটা শিরশিরে হাওয়া
একটা আস্ত শরৎকাল
সুনীলের কবিতায় লেখা নীল মেঘ
সকালের রোদ বিকেলের বেদনা
কোনো কোনো দিন একমাত্র সন্ধ্যাতারাটিও
ঢুকে পড়ে ঘরে

প্রশ্ন: প্রথম কবিতার শিরোনাম কী ছিল? কী নিয়ে লিখেছিলেন প্রথম কবিতা?

সাকিরা পারভীন সুমা: প্রথম কবিতা কি নিয়ে লিখেছিলাম মনে নেই। প্রথম ছাপা কবিতার নাম ছিল ‘প্রত্যয়’। তবে তা কবিতা ছিল না। কারণ কবিতার মতন দেখতে হলেই কবিতা হয়না।

প্রশ্ন১১: আপনার প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে কোন বইটি আপনাকে বিশেষভাবে আচ্ছন্ন করে রাখে এবং কেন?

সাকিরা পারভীন সুমা: কোনো বই আমাকে দীর্ঘদিন আচ্ছন্ন করে রাখে না।

প্রশ্ন: আপনার নিজের লেখা প্রিয় কবিতা কোনটি?

সাকিরা পারভীন সুমা: কোনটার কথা বলব। সম্প্রতি দীর্ঘ কবিতা বত্রিশ মঙ্গল রচনার কাজ শেষ করলাম । এই মুহূর্তে সে আমার প্রিয়। প্রিয় টিপ, প্রিয় নখ, প্রিয় গাছ সমাচার, প্রিয় প্রজাপতি, প্রিয় আঁইচ গাতী গ্রাম, প্রিয় বিশেষ, প্রিয় সম্পাদক, প্রিয় বৃষ্টির মাতলামি… কুড়ি পঁচিশ বছরে কয়েক শত সন্তান জন্ম দিয়ে বিশেষ একটিকে আলাদা করা কঠিণ।


মহাকালের গর্ভে নিপতিত হই-৪

আর আমি একটি বিষয়কে স্মরণ করে আনন্দিত হই আর একটি বিষয়কে স্মরণ করে বেদনার্ত হই।
আর আমি একটি বিষয়কে স্মরণ করে আশান্বিত হই আর আশাহত হই বারংবার।
আর আমব হাতুড়ী পেটাই তামাম পৃিথবীর গহবর ভরা অমাবশ্যায়…
তদরূপ আমার মস্তিস্কের বাক্স পেটরায় আমি জ্বালিয়ে দেই অস্তিত্ত্বের বৃহদ্ভান।

আর আমি মনোযোগী হই জীবনের প্রতি আর মরনের প্রতি নেশাগ্রস্থ হই।
মহিষের মাথায় চড়ে ধুম্ররাজ আসেন… বিচারকার্য পরিচালনা করবেন।
সেদিকে ভ্রূক্ষেপ না করে আমি ভেসে চলি উভচর অজগরের প্রার্থনায়।
কেননা এইসব উদযাপন আমাকে নন্দনকাননের দিকে ধাবিত করে।

আর আমি অন্ধকারের বৈভব আর আলোকের মায়াবী সুগন্ধির পার্থক্য বুঝি।
আর আমি একটি বিষয়কে ঘৃনা করতে চাই আর একটি বিষয়কে ভালবাসতে চাই।
অথচ কিছুই পারি না।

কেবল দূর নক্ষাত্রানুপুঞ্জের মত ভ্রমণ করতে থাকি আর মহাকালের গর্ভে আমি নিপতিত হই।
আর কোন মর্তবাসী ওজনের সূত্র বোঝেনা বলে আমাকে প্রত্যাখ্যান করে।
তবু আমি ওই একটি বিষয় মনে রাখতে চাই।
নিদ্রামগ্ন হবার আগে আর নিদ্রাভঙ্গের পূর্ব মূহূর্তেও
মূল্যবান স্বর্নমুদ্রা অথবা মূল্যহীন মনে পড়ার বদলে
ওরকম একটা উদ্ভট উপগ্রহকে… আমি মগজে রাখতে চাই।


প্রশ্ন: আপনি অনেক বেশি আবেগী, কেন? কবি মাত্রই কি আবেগী?

সাকিরা পারভীন সুমা: আমি আবেগী আপনাকে কে বলল। আবেগ মানে কী? আমার তো পাল্টা প্রশ্ন করতে মন চাইতেছে। আমি আবেগী তাতে সন্দেহ নেই। বেশি আবেগী তাতেও সন্দেহ নেই। কেন বেশি আবেগী তা জানা থাকলে আমার জানা নেই। জানতে পারলে উপকার হত। অনেক ক্ষতি থেকে বেঁচে যেতাম। তবু কোনো অভিযোগ নেই। আমার আমিকে আমি ভালোই বাসি।

কবি মাত্রই কি আবেগী? আপনার প্রশ্নগুলো সত্যি বোকা বোকা। কবি মাত্রই আবেগী হবে কেন, বরঞ্চ মানুষ মাত্রই আবেগী। গরুও খুব আবেগী। আমাদের বাবলীকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল! বাবলি পরেরদিন আমাদের বাড়িতে ফিরে এলো। বাবলি পথ চিনল কী করে? বাবলীর চোখে জল ছিল! বাবলি হলো আমাদের ক্ষয়িষ্ণু গ্রাম জীবনের শেষ সাক্ষী। বিড়াল, কুকুর, ময়না, টিয়া, মাছ, গাছ কেউ কিন্তু আবেগী নয়। আবেগী না হলে এত মেঘ এত বৃষ্টি এত রৌদ্র এত রংধনু আসত কী করে বলেন তো?

রং


একটা গোলাপি রঙের টিশার্টে ফেব্রিকস কালার করেছিলাম।
বুকের ভেতরে কয়েকটি পাথর আর প্রজাপতি।
বারংবার জানতে  চেয়েছিলাম খবর।
রং সম্পর্কে ধারনা না থাকায় অনিবার্য হলো টিশার্টের কবর।
প্রজাপতিগুলো উড়ে গিয়েছিল দূর আটলান্টিকে।
পাথরগুলো মত বদল না করে ফিরে এসেছিল।
ওদেরকে জড়িয়ে ধরে
আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। 
প্রশ্ন-৩: কার কবিতার নিবিষ্টতা আপনাকে আক্রান্ত করেছিল? কবিতা লেখায় তাগিদ দিয়েছিল?


তারুণ্যে কবি সাকিরা পারভীন সুমা

সাকিরা পারভীন সুমা: দেখেন আমি এত বুঝে শুনে কিছু  করিনি। কার কবিতার নিবিষ্টতা আক্রান্ত করেছিল! তাইতো। কার কবিতার? হুম, পেয়েছি- কাজী সাহেবের বলতে পারেন। মানুষ, সাম্যবাদী, নারী… গোপনে গোপনে এরা আমাকে আক্রান্ত করেছিল বলে মনে পড়ছে। তা তো ম্যালা দিন আগের কথা।
তখন আদিম মানুষ গুহায় বাস করত। আমার বয়সেরও ডালপালা নেই। তবু কাজী সাহেব আমাকে এখনো আক্রান্ত করেন বিবিধ কারণে। তবে তিনি আমাকে কবিতা লেখার তাগিদ দেননি। দেখেন, কেউ কারো তাগিদ নয়। তাগিদ একা। যেমন আপনি একা। সেরকম তাগিদও একা। তাগিদ একটা গাছের নাম। সকলের ভেতরেই এই তাগিদ গাছ আছে। যে যেভাবে পারে সেই গাছের ফল খায়। ধরেন ঘুষ খায়, সুদ খায়, চুরি খায়, চুমু খায়… ঐ এক তাগিদ গাছের প্রভাবে।
প্রকৃতিতে যে কবিতা লেখা হয় লেখা থাকে নিয়ত তাই আমাকে তাগিদ দিয়েছিল মনে হচ্ছে। আপনার প্রশ্নে উত্তর পেলাম। আপনি একটি বিশিষ্ট তাগিদ গাছ। 

তোমার সময় সময়ের চেয়ে দামি

এই এত রাতে কাউকে ডাকি না আমি
তোমার সময় সময়ের চেয়ে দামি
আমি ধুলি কণা বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে
শরতের মেঘে কালো রং মরি খুজে

এই এত রাতে সংসারে নেভে আলো
আলো না বরং অন্ধকারই তো ভালো
কেউ কারো মুখ দেখে না রাত্রি ছাড়া
ল্যাম্পপোস্টের ক্লান্তিটা দিশেহারা

আর ফুটপাতে এলোমেলো পথচারী
পা’দুটো পাথরে কাতরায় মহামারি
বেঁধেছ পরাণে বিরামবিহীন জ্বর
এই এত রাতে সবচেয়ে ভালো ঘর

দরজা বিহীন ঠিকানা বদলে নিও
আমি নই কালো বিড়ালের মিঁউ মিঁউ
জব্দ করেছ পিঁপড়ের ঘরবাড়ি
মৃত্যু আহত হাইকোর্টে রূল জারি

শেষ রাতে শেষ সিগারেটে আহা মধু
জানাচ্ছি আমি শিখিয়েছ তুমি জাদু
সোনার কাঠিতে কলঙ্ক রূপা মল
মনের ঘুঙুরে কাতরায় তোকে বল

কোন নামে এই এতরাতে ডাকি আমি
তোমার সময় সময়ের চেয়ে দামি।


প্রশ্ন-৪: একটা বিতর্ক- কবিতা কী চর্চায় লেখা হয় নাকি কবিতা হঠাৎই গর্ভের সন্তানের মতো ভূমিষ্ঠ হয়?

সাকিরা পারভীন সুমা: এটা কোনো বিতর্ক না । তর্ক করলেই বিতর্ক। গর্ভের সন্তান কিন্তু হঠাৎ ভূমিষ্ঠ হয়না। আপনার প্রশ্নের ভেতরে একটা ডিসকোর্স আছে। সন্তান-গর্ভ-ভূমিষ্ঠ; ওরে বাবা। দীর্ঘ পথ পরিক্রমা। আমার সকল সন্তানেরাই অসময়ে ভূমিষ্ঠ হয়েছে। তারা কেউ নেই। তাই আমি জানিনা পূর্ণাঙ্গ সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে কেমন লাগে। আমার গলা চেপে ধরছে কে যেন এই মুহূর্তে। ওহ।

এই প্রশ্নের আংশিক উত্তর আগেরটাতে আছে। তাগিদ। ঐ যে তাগিদ গাছ। তাগিদ গাছ ডাল পালা মেলে দেয়, ফুল দেয়, ফল দেয়, শুকনো পাতা দেয়…কবিতা লেখা হয়। নিরন্তর পাঠ, চর্চা, নিবিষ্টতা, আর আরাধনা ব্যাতীত কোনো গাছই বেঁচে থাকে না। একঘেয়ে চর্বিত চর্বন হয়। কিজানি! এমন ভাব নিয়ে কথা বলছি যে আমি একটা বিরাট কুতুব। আমি তা নই। আপনি এই প্রশ্ন দিয়ে আর উত্তর লেখার ক্রমাগত তাগিদ দিয়ে আমাকে যথেষ্ট বিপদে ফেলেছেন। আমি রোজই শিখছি কবিতা লেখা কবিতার কাছে।

আর কোনো কাজ থাকতে পারে না কবির

আর কোন কাজ থাকতে পারে না কবির কাব্য রচনা ছাড়া।
কাব্য রচনার ফাঁকে ফাঁকে শুন্যতার চাষাবাদ
এই শূন্যতার সাথে সামান্য প্রেম হেমলগ হামাগুড়ি
ইচ্ছা করে তো তাকে তুলে নাও হাতের মুঠোয়, তুমি কবি।

বিভ্রম ঝুলে থাক নিস্তব্ধ এপিটাফে, স্পর্শের ফটোগ্রাফে প্রিয়মুখ।
অথবা পুকুরের কাঁচা মৃত্তিকার চরে বুনে দাও জাফরান দানা।
আর তা না হলে এবার বর্ষায় একটা কামিনীর ডাল পুঁতে দিও, তার ফুল ঝরে যাবে বর্ষায় শুভ্রসাদায়।
আশে-পাশে দুটো হাস্নাহেনার ঝাড় আর লিলিকেও পাবে যদি চাও; হাইব্রিড চাষের জামানায় সকলই সম্ভব।

তোমরা কবিকে নানাবিধ কাজে কর্মে ব্যস্ত রেখো না।
খুব বেশী হলে দু’চারটে সিগারেট দিতে পারো মাঝরাতে
মাছেদের সাথে জেগে পানপাত্রে পবিত্রতা পান মন্দ নয়।

কবি কারো জন্য ক্ষতিকর কীট পতঙ্গ নয়
কবি যে ছবি এঁকেছে তোমার মনে মনে
সেই ছবি প্রয়োজনে মুছে ফেলবে ইরেজার দিয়ে;
আর তা না হলে কালো মার্কার অথবা সাদা ফ্লুয়েড
এপার ওপার, নৌকা ভেড়ানোর সুযোগ পাবে না চোরামাঝি
মাঝদরিয়ায় আসতেই ঢেউ আর ঢেউ, উথাল পাতাল ঝড়ের এনাটমি।

কবিরা পবিত্র মানুষ যেমন রাত্রির
রাত তার অন্ধকারের গর্তে গহবরে
লুকিয়ে ফেলেছে অরাজক কাল,
খাল কেটে কুমির এনেছে ডেকে রৌদ্রগুহায়।

বালক বালিকারা সামাজিক যোগাযোগে
ঠেকাতে চাইছে হেলেপড়া পিলারের রাজনীতি,
দুর্বিসহ সংবাদের আঘাতে ক্লান্ত মানুষ। মিছিলে মিছিলে প্রেম ও মৃত্যুর নানা কৌশল।
রাত বেশি হলে গোপন সাপের খাপ খুলে বেরিয়ে পড়ছে ডিজিটাল নারী ও পুরুষ যুথবদ্ধ সোমরসে।
সদ্য কিশোর থেকে প্রয়াত যৌবনা ঘেউ ঘেউ করে গেয়ে উঠছে জীবনের গান।
এই সব মানে কবি বোঝে।

তোমরা কবিকে কষ্ট দিও না তুলে পাতে। তার হাতে বিষ মাখা ছুরির বদল, হৃৎপিন্ডে চরম অরাজকতা।
সামান্য ভালো যদি বেসে ফেলে ভুল আস্ফালনে তাকে সমাদর করো
তোমাদের সামান্য সমাদরে অসম্ভব উবু হয়ে কবি ঘুমিয়ে পড়বে বিড়ালের পদতলে
চুমুও দেবে না প্রয়োজনে, না দিলে কী হয়?

তুমি কবি হলে একদিন রাতের সালুন দিয়ে বাঁশমতি চালের ভাত মেখে খেও
গরম ভাতের জলে সিদ্ধ হয়ে নরম কার্পাশ উড়ে এলে তাকে কুড়াতে ভুলো না

স্কাইপিতে যোগাযোগ হলে ছেলেটাকে বলো
কবির কলম আর হৃদয়ের সাথে প্রষ্ফুটিত নীলকন্ঠির তুলনা হয়না কোনো
কবি তো পদ্মের নিচে জমে থাকা শিশিরের বিষপানে জেগে ওঠা সোনালি কাবিন
সুতরাং ধ্যান ভঙ্গো করো না কবির ককখোনো
যদি পারো প্রতিদিন রূপালি প্রত্যুষের দুধে ভাতে মেখে দিও নিপুণ প্রত্যাখ্যান।
ঘৃণাভরে।

ইচ্ছাতোমার কন্ঠে তুলে দেবার জন্য
একটি কবিতা লিখতে চাইছি
বহুকাল ধরে
কবিতা বিষয়ক বিবিধ ভাব জমানো হচ্ছে
সম্প্রসারিত বেদনার চড়ুইফুল
সুখসম্ভার গোছানো হচ্ছে
তোমার কন্ঠে তুলে দেয়ার মতন একটি কবিতা
একটি সম্পূর্ণ তরমুজ
ধারালো ক্ষুর
একটি বিহবল কাঁচের বয়ামে ভিনেগারে ডোবানো ডটেড শষাদল
তোমার কোলাহলে ঠেকা দিতে কয়েকশ’ খোল
করতাল ঝাঁঝালো ঝাঁঝর
প্রিয় চিনিকল
সান্ধ্য বুদবুদ
তোমাকে বলার মতন একটি কবিতার দানা
বপন করতে চাই বহুদিন ধরে
একই আকাশের দিকে নিয়ত তাকিয়ে থাকি
পাখি উড়ে যায় এক একটি কবিতায়
কি এমন গাঁথা থাকে
কতটুকু ব্যাথা অপচয়

প্রশ্ন-৫: জীবনের কোন বিষয়টি আপনাকে খুব আক্রান্ত করে?

সাকিরা পারভীন সুমা: হাতের কাছে একটা বেত থাকলে ভালো হত। শপাং শপাং। আমাকে কোন বিষয় আক্রান্ত করে তা আমি কেন বলতে যাব। প্রশ্ন হলো কি আমাকে আক্রন্ত করে না। এটাও একটা অবান্তর প্রশ্ন।

জীবন এক দীর্ঘ পরিক্রমা। বাচ্চু ভাই রোজ খবর দিচ্ছেন তাঁর ফেসবুকে, আবৃত্তিকার সংস্কৃতি কর্মী হাসান আরিফ ভাইয়ের জীবন-মরনের সংকট নিয়ে। আমি তাঁর আবৃত্তি ভীষণ পছন্দ করি। হাসান ভাইয়ের জীবন-মৃত্যুর আশঙ্কা আমাকে আক্রান্ত করে রেখেছে। ফরাসী ভাষার অন্যতম পণ্ডিত অধ্যাপক অনুবাদক ড. চিন্ময় গুহ কোভিডে আক্রান্ত। আমি তার অসুস্থতা দ্বারা আক্রান্ত।

***বোকা ইতোমধ্যে যাদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে, তাদরে প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞ। এবং যারা বোকায় লিখতে চান তারা এই লেখার উপর ক্লিক করে উপায়টি জেনে নিন।***

কবিতা আমাকে আক্রান্ত করে রাখে। সঙ্গীত আমাকে আক্রান্ত করে রাখে। অজস্র ভালো সিনেমা আমাকে আক্রান্ত করে রাখে। সংসার, বৈরাগ্য, বৃষ্টি, শীত, সর্ষে ফুল, আমার বারান্দায় চড়ুইয়ের সংসার আমাকে আক্রান্ত করে। পৃথিবীর যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা, রাজনীতি, অনাকাঙ্খিত খুন, ধর্ষণ, পুঁজিবাদ, সভ্যতার নোংরামি; কোনটার কথা বলব। প্রেম, বিরহ, স্মৃতি, সম্পর্ক কোনটাকে বাদ দিব। আমি শিক্ষকতা করি। প্রতিটি ক্লাস, ছাত্রদের স্বপ্ন স্বপ্নের ভাঙা ঝুড়ি সফলতা আমাকে আক্রান্ত করে। যখন টেলিভিশনের জন্য কোনো নির্মাণ পরিকল্পনা করি তখন ওটা আমার অসুখ। আলসেমী, রান্নাঘর, চোখের নিচে জমে থাকা কালি… না ভাই আমি উত্তর দিতে পারব না।

নিয়তি

মনে করো মুখ থুবড়ে পড়ে আছে
একটি অজগর
তুমি বেছে নেবে অন্য পথ
মনে করো মরা কুকুরের গলায়
বেজে চলেছে সাইরেন
তুমি বেছে নেবে অন্য পথ
বেছে নিতে নিতে হয়ে যাবে
কাঁটা বাছাই কারিগর

তবু কিছুদিন তুমি নির্ধারিত দিন ও রাতের পার্থক্য
ছাড়াই পার হয়ে যাবে স্রোতহীন যাদুকাটা নদী।

অক্সিজেন

কেউ একটু আশ্বস্ত করলেই পারো
এই আশ্বিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা ক্ষীণ
এজীবনে শোধ হবার নয়
কোনো কোনো মিথ্যে আশ্বাসের ঋণ
এই যেমন তুমি
ভালোবেসেছিলে পরিয়েছিল
ঐশ্বর্যের নামাঙ্কিত এক আশ্চর্য কাবিন
তারপর সব ভেসে ডুবে মরে পচে গলে একাকার
আদতে অর্থহীন
এখন একটু আশ্বস্ত করো
সামান্য অক্সিজেন
দাও
আমার শ্বাসযন্ত্র বিকল হবাে উপক্রম
দয়া করো

কমরেড

সাকিরা পারভীন সুমা

কিছু একটা না পাঠিয়েই
পাঠাওয়ের শরণাপন্ন হলে কেন
কেন তাকে আসতে বললে
ঠিকানা মাফিক সে তো কোনো একটা দ্রব্যই পৌঁছে দিতে পারে
তুমি যাকিছু দিতে চাইছ
তা কি কোনো রকম দ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়
কান্ট অথবা হেগেল কারো কাছেই নয়
একটা লাল গামছাই পাঠিয়ে দিতে না হয়
অপরিচিত প্রাপকের বুঝতে অসুবিধা হত না
পৃথিবীর কোনো কোনো দ্বীপে এখনো কেউ কেউ
কমরেড ভালোবাসে
এখনো কেউ কেউ বলে
দুনিয়ায় মজদুর এক হও লড়াই করো
দুনিয়া জুড়ে এক জাতীয়তাবাদের পেন্ডুলাম
ধর্ম অথবা ভাষা বর্ণ অথবা রঙ
একই মইয়ের তলায় পিষে যাচ্ছে পৃথিবীর মাটি
বাদ পড়ছেনা আকাশ
মহাশুন্যেও বিধে আছে ভাঙা রকেটের বিস্ফোরিত গুড়ো
বৈশ্বিক ক্যামোফ্লেজ
হতবিহবল মানুষ
ভুলে গেছে শোক ও কান্নার ভাষা
ডানা ভেঙে পড়ে আছে সুখ পাখিটার ডানা
চলো হাত তুলি
একটি ছোট্ট ডিঙি নৌকায় ভাসি
ভালোবাসি।

প্রশ্ন: যে শিশুটি ভূমিষ্ঠ হয়নি অথচ তার জীবন শঙ্কার মধ্যে এর থেকেও কি কোনো আশঙ্কা মানুষের জীবনে থাকে?

সাকিরা পারভীন সুমা: থাকে।

প্রশ্ন: আপনার প্রিয় কবিতার সাথে মিলিয়ে আপনার নিজের জীবনের কথা বলুন।

সাকিরা পারভীন সুমা: প্রতিটি কবিতাই কোনো না কোনো ভাবে ব্যক্তিক অথবা সামষ্টিক অথবা মহাবৈশ্বিক জীবনের সাথে সম্পৃক্ত। তাই একটি প্রিয় কবিতার সাথে মিলিয়ে জীবন রচনা করা সম্ভব নয়।

প্রশ্ন: তৃপ্তি কী? কোন জিনিসটি পেলে একজন কবি তৃপ্ত হতে পারেন?

সাকিরা পারভীন সুমা: তৃপ্তি একটি ধারনা। কবির কবিতা কেউ বা কেউ কেউ বা অনেকে পাঠ করলে কবির তৃপ্তি হতে পারে। নাও হতে পারে।

*** দ্যা ম্যান উইদাউট মেকাপ-এর গল্প পড়তে ক্লিক করুন এখানে। ***

এমনিতেই রাত্রি। তারপর কালো জামা। ঠাণ্ডাকিছুক্ষণ আগেই ধোয়া হয়েছে। টাঙানোর সাথে সাথে কড়াৎ করে ডেকে উঠল সবুজ।কালো ওর পছন্দ নয়। ঠাণ্ডাও।রোজ রাতে আমাকে সে ভালোবাসেশুকায়। রোদে বৃষ্টিতে। কাঁদায়। যে কোনো কায়দায়তাই রোজ রাত্রির আলনায়ঝুলিয়ে রাখি সাকিরাকেবারান্দায় অন্যান্য কাপড়ের সাথেআনন্দ অশ্রুতে অলাতচক্র নির্দ্বিধায়রাতের আলনায়, সাকিরা পারভীন

প্রশ্ন১০: ঠিক এই সময়ে যারা লিখছেন তাদের মধ্যে কার কার লেখা আপনাকে আকৃষ্ট করে?

সাকিরা পারভীন সুমা: আকৃষ্ট করে! ঠিক এই সময় মানে কী? এক এক জন কবি কুড়ি ত্রিশ চল্লিশ বছর ধরে লিখছেন। এখনো তো লিখছেন। তাকে কি এই সময় বলব না? আমি অজস্র কবিতা পড়ি। বিশেষ একটি দু’টি নাম বলা কঠিণ। সাম্প্রতিক সময়ে অনেক কবির অনেক কবিতা আমার ভালো লাগে, আকৃষ্ট করে কিনা জানিনা। জয় গোস্বামী, শ্রীজাত, সেবন্তি ঘোষ, বিভাষ রায় চৌধুরী, জহর সেন মজুমদার, রনজিৎ দাস,  মেঘ অদিতি, অলকা নন্দিতা, রায়হান রাইন, রহমান হেনরী, লুফাইয়্যা শাম্মী, মজিদ মাহমুদ, মুজিব ইরম, সরকার আমীন, টোকন ঠাকুর, শেলী নাজ, আসমা চৌধুরী, জাহানারা পারভীন, পাপিয়া জেরিন, সাবেরা তাবাসসুম, নভেরা হোসেন, ইমতিয়াজ মাহমুদ, হাসনাইন হীরা,  দ্রাবিড় সৈকত…কত নাম বলব। হিসাব করা কঠিন, সত্যি কঠিন। খুব বাজে প্রশ্ন। এধরনের প্রশ্নের কোনো মানে হয়না।

প্রশ্ন১২: একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি, এই নগর জীবনে এসে জীবনের ঠিক কোন বিষয়টির অভাব বোধ করছেন?

সাকিরা পারভীন সুমা: নৈঃশব্দ। সরলতা। জীবন বোধ। পরিচ্ছন্নতা। নিরাপত্তাহীনতা। একশো রকম শিক্ষা ব্যবস্থা।  

প্রশ্ন১৩: ব্যক্তি সাকিরা আসলে কেমন মানুষ?

সাকিরা পারভীন সুমা: সে কেমন মানুষ আমি জানিন। সাকিরার সাথে দেখা হলে জিজ্ঞেস করব।

প্রশ্ন১৪: কবি সাকিরার চোখ দিয়ে বাংলাদেশটা কেমন হতে পারতো?

সাকিরা পারভীন সুমা: পরিচ্ছন্ন। পরিপাটি। মায়াবী। প্রজ্ঞাবান। আইনানুগ। পরিকল্পিত।

প্রশ্ন১৫: পড়তে গিয়ে কী পড়লেন? আর পড়াতে গিয়ে কী পড়াচ্ছেন?

সাকিরা পারভীন সুমা: কোন পড়ার কথা বলছেন? একাডেমিক ভাবে বিশ^বিদ্যালয়ের পড়া না কি অন্যান্য পড়া। একাডেমিক ভাবে নাটক ও চলচ্চিত্র নিয়ে পড়েছি। জীবনের কাছে পড়েছি সঙ্গীত, সুন্দর, যুদ্ধ। যা পড়েছি তাই পড়াতে চেষ্টা করি।

প্রশ্ন১৬: আপনার শৈশব কৈশোরের নায়কের কথা জানতে চাই।

সাকিরা পারভীন সুমা: প্রতিটি প্রশ্নই খুব সাংঘর্ষিক। 

প্রশ্ন১৭: কবি কী স্বীকৃতির ধার ধারে?

সাকিরা পারভীন সুমা: ধার ধারে। প্রতিটি কৃষক ধান লাগায় ফসলের জন্য। কবিও চায় তার লাগনো ক্ষেতের ফসল পাঠকের থালায় শোভা পাক, পাঠকের হৃদয়ে ঠাঁই পাক। 

প্রশ্ন১৮: বাংলা ভাষার কবিতায় এখন কী চলছে?

সাকিরা পারভীন সুমা: বাংলা ভাষার কবিতায় কী চলছে। হাতি ঘোড়া উড়োজাহাজ সব চলছে তো। অজস্র কবিতা লেখা হচ্ছে। অনেক রকম এক্সপেরিমেন্ট হচ্ছে। অনেক ভাষায় অনুদিত হচ্ছে। অনেক দেশের কবি ও পাঠকেরা বাংলা কবিতার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে।

সাকিরা পারভীন সুমা : সাহিত্য সম্পাদক

একজন উঁচু দামী সম্পাদক এদিকে এগিয়ে। আসছিলেন।
আশেপাশে তদপেক্ষা নিচু সাহিত্য।
চোখে তোতলা মিষ্টি হাসি।
কথারাও। ছিল। ঐসকল বন্ধুত্বের লগে। ভাষা আওলাইয়া গেল না তো!
যাবে না। আশা আছে। ভাষার ছোট বোনের নাম।
সে আছে। এদেরকে কখনই ভালোবাসার সাথে মেলানো যাবেনা।
সম্পাদকের আগমন। খবর। অত্র এলাকায় খুব দুঃখ।
বিস্মিত চোখ ।
তথাকথিত নামকরা এক সাহিত্য। সম্পাদক। এইদিকে এগিয়ে।
তাইলে এলাকার হবে ডা কি? হক্কলেই কবি অইব না তো! ভাষার আশা চলিয়া যায় যায়। আমিও গিয়াছিলাম।

তাহার একখানা সাহিত্য। ছিঁড়েতে। ছিঁড়িয়াছিলাম।
খুঁড়িয়াছিলাম।
যেন খুব চিনি তাকে এভঙ্গিতে সালাম ঠুকে পালাতে প্রস্তুত।
মন। and im caught ‘আমাদের জন্য আপনার একটি কবিতা পাঠিয়ে দেবেন।’

জ্বি। না মানে। আম্তা আম্তা। দুই দু’গুণে চার তিন দু গু’ণে পাঁচ…ভেতরে।
বাইরে কাঠবাদামের খোলায় কাঠখট্টা রৌদ্রু।
তারপর থেকে কত চন্দ্রভুক অমাবশ্যা কেটে গেল। সেই নাদের আলী আর আইল না।
কবিতা। হইলো না। দুঃখটা এত ভালো ছিল যে তাহাকে প্রকাশ করা গেল না।
পারিলে।
একখানা কবিতা তাহাকে পাঠাইতাম।
কিন্তু কোথায়। পাইব।
তাহাকে।
তিনি সম্পাদিত হচ্ছেন। অচলায়তনে।

প্রশ্ন১৯: বাংলাদেশ তার বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করলো। কবি সাকিরার চোখ দিয়ে বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী দেখতে চাই।

সাকিরা পারভীন সুমা: ৬৪ হাজার গ্রামে ৬৪ হাজার পাঠাগার স্থাপন। ৬৪ হাজার একতারায় একসাথে বেজে উঠবে একটি সুর একটি গান- একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার, সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার। একটি সেকুলার সাংস্কৃতিক বাংলাদেশ উদযাপন।

বৃক্ষ সমাচার-৪ : সাকিরা পারভীন সুমা

উনসত্তর, সত্তর, একাত্তর…নিরাপত্তার খাতিরে প্রত্যেকের গায়ে নাম্বার দেয়া ছিল।
কিছুই বলেনি নন্দিনী।
ত্রিশ বছর পর খুন হয় একাত্তর।
সত্তরের উপরে উড়তে থাকে দু’টো পাখি। বাচ্চা ফোটাবার কথা
একাত্তরের ডালে ডিম পেড়েছিল।
রাতের অন্ধকারে উন্নয়নের নামে উজাড় হয়েছে উদ্যান
রক্তকরবীর তবু কান্না আসে না

পুনঃশ্চ: প্রিয় বো-কাপা-ঠক, কবির সাথে আলাপচারিতার কোনো কিছুই সম্পাদনা করা হয়নি। বোকা মনে করে- সাহিত্য সম্পাদকের কলমের কালি দাঁতে দাঁতে কবিতা ডালে ডালে ঝুলে।

One thought on “কবিতায় সাকিরার বসবাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *