মাতাল পৃথিবী

Spread the love
Reading Time: 15 minutes

উৎসর্গ

 

বইয়ের ভেতর বই
ওই বইটি
যা আড়াল করা আছে
বিশেষ মনোযোগে
নিঃশ্বাসগুলো যখন গাঢ় হয়ে পড়ছে
তার পাতায় পাতায়
বয়ঃসন্ধির ওই সময়কে
এবং
পৃথিবীর সব চটি পড়ুয়াদের
নিবেদন করা হইলো

এক.

কঙ্গনা এমনিতে বেঢপ নয়। আবার পুরোটা যেন নারীও নয়। তাহলে কি?

স্তনের মাপে তাকে নারী কল্পনা করা কঠিন। তবুও কেন যে সবাই হা করে থাকে। এই হা নির্লোভ হা নয়। সেখানে কামনার জল আছে। পিপাসায় কাতরতা আছে। থাকবেই না কেন? পশ্চাৎভাগটা দেখেছো! উফ্! লোভাতুর আকর্ষণ। সেই ভাগটাতে অনেকই যেন হাত দিতে চায়। আটা রুটির কাই গুলানো সকালের মতো পরোটা ভাঁজতে চায়। সাবাই কি আর পারে!

তাই তো হা করে থাকে সমাজ। গোত্রীয় ভাইরা যেখানে হা হয়ে থাকে সেখানে রাস্তার কিলবিলে ক্ষুধার্ত মুখগুলো হা করে থাকবেই।

কঙ্গনা ভাবে, থাক না! হা করেই তো আছে। আহা! এ রাজ্যের সব নারীই যদি কঙ্গনা হয়ে উঠতো তাহলে কাউকে আর হা করে থাকতে হতো না। সবাই চেটে-পুটে চেখে দেখতে পারতো। কঙ্গনা জানে, মানুষ যা ভাবে তা সম্ভাব্যতার ফেরে রেখেই ভাবে। কারণ, এক মানব জীবনে সব সম্ভব হয়ে উঠে না আবার সম্ভবও না। চাইলেই কি আর পৃথিবীর সব নারীকে কঙ্গনা সেন করে ফেলা সম্ভব। যেমনটা সম্ভব না তার নিবিষ্ট মনের একান্ত ইচ্ছাটাও। পৃথিবীর একটা দিন পুরো মানবসমাজ মাতাল হয়ে যাবে। শিশু বৃদ্ধ জোয়ান মর্দ সব সব। ভাবনার ওই মাতাল দিনটির ফলাফল কি হতে পারে ভেবে কোনও কিনারা পাওয়া যায় না।

কঙ্গনা দিনকে-দিন আরও সবুজ; আরও প্রাণোবান হয়ে উঠছে। তার ঊষর রঙা ধূসর অস্পষ্ট করুণ চোখ সবার নজরে পড়ে যাচ্ছে। কোনও কিছুতেই আড়াল করা যাচ্ছে না। বিপাকে পড়ে যাচ্ছে রাষ্ট্র। সীমানা গেড়েও তার সবুজ জৌলুশ যেন আটকাতে পারছে না। এপার ওপার সব পারেই কঙ্গনার পাণিপ্রার্থী তরুণ যুবক আর বয়েসের ভারে এলিয়ে পড়া পুরুষ তটস্থ হয়ে আছে, আসবে কি ওই মধুর মিলন ক্ষণ?

এক হবার।

বয়স্ক লাইব্রেরিয়ানের চশমার গ্লাস গলে আসা চোখ দুটো দেখে ভরকে যেতে নেই। ওই দু চোখে অসংখ্য লিপির ছন্দহীন তালিকা রয়েছে। যে কোনও সময় প্রয়োজনে তার চোখে চোখ রাখতেই হবে। এ পরিণতি বুঝে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাড়ন্ত যুবতীর শরীর। যে শরীরে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে অ্যাস্টাব্লিশমেন্ট আর অ্যান্টি-জনদের চিৎকার-চেচামেচি। কতোটা পারো? কতোক্ষণ পারো? কতো উচ্চতায় উত্থিত করো? কতো ভঙ্গিমায় জানো ওই জীবনের লতা-পাতা এবং শিরা-উপশিরার সব রম্য রচনা আর আনন্দের ভাগাড়। সে ভাগাড়ে ডুবতে হবে। ডুবে ডুবে ভাসতে হবে। ভেসে ভেসে চলতে হবে। অ্যাস্টাব্লিশমেন্ট প্রয়োজনে প্রকৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে তাকে দাঁড় করিয়েছে ভায়াগ্রা আস্বাদনে। আর অ্যান্টি-জনরা চুপে চুপে গাল দিয়েছে তার নেতিয়ে পড়া শরীরী অঙ্গানুগুলোর ভগ্নদশা দেখে। হঠাৎ, যদি কখনও সে ফুঁসে উঠে, দেখবে তাকে গিলে ফেলেছে অদ্ভুত এক আলোকরূপী আঁধার; যার নাম অ্যাস্টাব্লিশমেন্ট। হায়! জীবন! তবুও জয় জীবনের; জয়, জীবন জয়ের সব সৈনিকের।

এক আধটু দেখা যেতেই পারে। অন্তত এই অবসরটায় পড়ে থাকা বইগুলোর যতœ হয় দেখার ছলে যারা হাতড়িয়ে দুই একবার শেল্ফ থেকে নামায় তাদের নিমিত্তে। মেদবহুল বইগুলোর পৃষ্ঠাজুড়ে থাকা নিবিষ্টের জ্ঞানের আঁধার। সে আঁধারে যেন এক-একটা দীর্ঘ প্রাচীর। ওইসব প্রাচীর টপকে যেতে পারলেই যেন কারও কারও কাছে এক মুক্তি। আবার কারও কারও কাছে আরেক অপ্রাপ্তি জাগানিয়া পিল। সে আঁধার থেকে তোমাকে উঠে আসতে হবে। নচেৎ পড়ে থাকা সামনের অবিশিষ্টকালে হয়ে যাবে শ্রমিক নয় মেহনতি দলের এক মূর্খ গোঁয়ার।

কঙ্গনা ভাবছে; ভেবে ভেবে যাচ্ছে। যেতে যেতে ভাবছে। যারা যেতে যেতে ভাবে তাদের অনেকেই হোঁচট খাচ্ছে। যারা ভেবে ভেবে অতঃপর যাচ্ছে তাদের অনেকেই যেন এখন আলাদা হয়ে গেছে, তোমার আমার এই জীবনের স্থূল সব যাতনার ঊর্ধ্বে। কঙ্গনা এমনটা চায় না। তাহলে কেমন চাই এই জীবনের মানে? জীবন কি শাশ্বত অবয়বের চিত্র নয়? অবচেতন আর চেতনের ঘোর নয়? চেতনার জালে জড়িয়ে থেকে থেকে ছল নয়?

বয়স্ক লাইব্রেরিয়ানের চশমার কাঁচ ভেদ করে কঙ্গনা তার চোখ মেলে দিয়েছে।

বুড়োর চোখে পড়েছে যুবতীর চোখ। দুই জোড়া চোখে কেমন অস্পৃশ্যতা আঁকা আছে।

কঙ্গনা বুড়োকে বলছে, জেনো, এমনটা আমি চাই না।

বুড়ো প্রত্যুত্তরে বলছে, জেনো, এমনটা আমারও কাম্য ছিল না। এখন আমি অপেক্ষা করি, জীবনের। মেঘমেদুরের রঙে রঙিন হওয়া; ওই জীবনের। যে জীবন আমার যুগে আসেনি কখনও। সে কখনওই আসেনি আমার স্বপ্ন ঘরে। হায় চিল সোনালী ডানার জরি মাখা রঙিন মখমলের চিল! জীবনানন্দ কী জানতো মখমলে মোড়া সোনালী ডানার চিলের সন্ধান? যে চিল গেল আটপৌরে হৃদয় বিদীর্ণ করে গেছে প্রৌঢ়ের। এখন শরীর ক্ষয়িষ্ণু জরায় জড়িয়েছে মৃত উপত্যকার স্বাদ। সে দিকেই চলছি একে একে নির্বিবাদ সত্যের কাছাকাছি দিনে। বুড়ো শান্ত আর নির্লিপ্ত নয়ন দুখানি বাড়িয়ে দিয়েছে কঙ্গনার কম্পিত নয়ন পানে।

কঙ্গনা রাগে ক্ষোভে দৃষ্টি ফেলেছে মেদবহুল বইগুলোর দিকে। ফিরে ফিরে একই প্রশ্ন- এমন জীবনের কি মানে আছে? সংশয় জীবনের কী কারণ? একটা লাইব্রেরিতেই পার হয়ে যাবে পুরো একটা জীবন! এর কী মানে হে মহান কার্ল মার্কস? তুমি আমার শিক্ষা গুরু হতে পারতে নচেৎ আমার প্রেমিক! অথচ তুমি এক জীবন পেরুয়ে মরে রইলে বইয়ের ভাগাড়ে। তোমার অধ্যায় জানতে এখন আমি বইয়ের ভাগাড়ে। জেনেছি পুরো পৃথিবী তোমার জানা ছিল! তুমি কি জানতে বাংলার এই যুবতীর মনের ইতিহাস? ভর করে করে শতক শতক কাল অতিক্রম হবার পর এখন একলা পথ হাঁটে বাংলার যুবতী। পথে পথে ধর্ষিত হয়। পথে পথে চর্চিত হয়। পথে পথেই এই যুবতীর গর্ভে জন্ম মহাজাতকের।

কার্ল মার্কস কঙ্গনার শিক্ষাগুরুও নয় প্রেমিকও নয়। কঙ্গনা ভাবে এই পুরুষটি পৃথিবীর সব নারীর পুরুষ হওয়ার যোগ্য। যেমনটা নিজের শরীরী রূপকে বাড়ন্ত বলে নিজেই হাঁপিয়ে উঠেছে; সবার জন্য উন্মুক্ত না হতে পারার ব্যর্থতায়। যে রূপ পান করতে জানতে হবে অধ্যায় অনুচ্ছেদ অতঃপর প্রশ্নপত্র নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্ব আর একটা বিশদ ব্যাখ্যা; উপযুক্ত বিশেষণ নির্বাচন না হলে বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তো থাকছেই। কঙ্গনাকেও জানা হয় না কোনও পুরুষের। কঙ্গনা ভাবে, কার্ল মার্কসকেও জানা হয় না কোনও মানুষের। আবার সে নিজেকে আশ্বস্ত করতে বলছে, আমি হয়তো নিজেই তাকে পড়তে পারছি না; এ আমার রীতিমতো ব্যর্থতা। অথচ সভা সেমিনারে উঠতি তরুণের কি বাঙময় আস্ফালন। মার্কস তুমি দিকে দিকে অরুণোদয়ের আলো। মার্কস তুমি কৃষকের কাস্তেয় আর শ্রমিকের হাতুড়ি শাবলের শক্ত সামর্থ্য প্রেষণে।

কঙ্গনা অভিভূত হয়ে যায় তরুণের মুখে মার্কসের জয় গান শুনে। এমনটা হয়, হতেই পারে। যাকে ভালোবাসো তার সান্নিধ্য পাবার নয়। এমনটা হয়, হতেই পারে যাকে ভালোবাসো সে বুঝবার নয় নিজের জ্ঞানে।

বুড়োটা ঢুলছে; ফ্যানের ক্যাট ক্যাটে আওয়াজের কোলাহল লাইব্রেরির মানানসই চরিত্র নিঃস্তব্ধতাকে আরও গাঢ় করে তুলেছে। সাথে মৃদুমন্দ বাতাসে বইয়ের পাতাগুলো ঢুলছে; ঢুলছে মখমলে মোড়া কঙ্গনা সেনের শরীরটাও। যে যুবকটি সম্মুখের টেবিলটায় বসে বেশ কয়েকবার কাশি আটকাবার ভঙ্গিতে খিক-খিক করলো সেও ঢুলছে।

রোদ পড়ে গেছে। গাছের পাতা প্রাণহীন তাকিয়ে আছে ডুবতে থাকা সূর্যটার দিকে। বিলুপ্ত কত বিনষ্ট প্রজাতির পাখপাখালির দুঃখে তারা যেন মিইয়ে গেছে। সবুজ কেমন যেন পীতাভ নীল হয়ে গেছে। লীন হয়ে গেছে তার ছন্দ। একটা সময় ছিল, যখন আমাদের মনের সাথে বাতাস নাচাতো গাছের পাতা। একটা সময় ছিল, যখন পাতারা খসে পড়া তারাদের মতোন ঝিরি ঝিরি পড়ে যেত বাতাসের মমতায়।

এখন গত হবার ভয় আছে। তাই পাতাগুলো হলদে হওয়ার আগেই বিনষ্ট হয় করপুরেট গন্ধে। বিরুৎ গুলাম বৃক্ষহীন জীবন নিয়ে সেখানে বাসা বাঁধে স্বপ্নিক মানুষেরা। তারা দৈত্যাকার বাড়ি বানায়। আবার বাড়ির মাথায় প্রকৃতি সাজায়। সূর্য আর প্রকৃতি বুঝি মিলেমিশে এক হয়ে যায় অট্টালিকার শিরায়।

পাখিরা; যাদের নামটাও জানা কঠিন তারা দিব্যি ভালো আছে খাঁচায়। বানরটা একটা গাছের মতোন সাজানো ডালে বসে বসে খিস্তি করছে নিজের ভাষায়; আর কলার তৈরি প্রিজারবেটিভ লাচ্ছিতে চুমুক দিচ্ছে থেমে থেমে। ভঙ্গিটা যেন ক্ষোভের। তাকে দেখলেই ছেলেমেয়েরা বাদাম ছুঁড়ে দেয়। চৈনিক বাদামের রেশ তার যাচ্ছেতাই লাগে। সঙ্গিনীর শরীরে উঁকুনের বাস নাই, অলস দুপুর কাটাবার তাড়া নাই। রোদ পড়ে গেছে যাক। এই অভয়ারণ্যে মালিক ছাড়া তাকে মারবার কেউ নাই। সে আর বেওয়ারিশ নয়।

কঙ্গনা উঠে দাঁড়ায়। ইলেকট্রিক পাখার ক্যাট ক্যাটে আওয়াজ বন্ধ হয়ে গেছে। লাইব্রেরির চেয়ারগুলোতে এলিয়ে পড়া সব নর-নারী তার ঢুলু ঢুলু শরীরে টান মারছে। কঙ্গনার ঠোঁটভরা হাসি কোনওমতে চেপে রাখে। সম্মুখের চেয়ারে বসা ছেলেটা পরিশ্রান্তের ঘুম দিয়েছে। তার নাকের গর্জন সমুদ্রের ঢেউয়ের কাছাকাছি ছেঁপে গেছে। সময় চারটের বেশি নয়।

চারদেয়ালের বাইরে এসেই দেখে গ্রীস্মের লাবণ্যময় এক বিকেল। পুরোটা আকাশ নীল। সে কবি হয়ে উঠলে বলতো, আমার এক বুক নীল, তোমার আকাশ ভরা চিল।

কেন তার এক বুক নীল কঙ্গনা ভেবে পায় না। ওই নীল শাড়ী মেয়েটিও কি তার প্রেমিককে জানিয়েছে তার এক বুক নীল আছে। নাকি মেয়েটার এক বুক জীবন আছে? এই সমাজে মেয়েদের বুক ভরা জীবনের কথা বলা বারণ। তার চেয়ে পুরুষেরা বুক ভরা নীল শুনতেই বেশি পছন্দ করবে। মেয়েদের যেন দুঃখিত করে দেখার মধ্যে আলাদা এক ইচ্ছা আছে পুরুষের। দুঃখী দুঃখী মেয়েদের দিকে কাম দৃষ্টি যায় মায়াভরা চোখের মধুরতায়।

কঙ্গনার ভাল্লাগে না। এমন করে জুটি বেঁধে এদকি ওদিক হাঁটাহাঁটি করা। ওই সময়ক্ষেপণ একটা লক্ষ্যকে স্থির করার চেষ্টা মাত্র। একটা নিঃসঙ্গ নিরিবিলি কিনারা কিংবা একটা ঘর হলেই হয়। তৃষ্ণা ফুরোয় ধবল কপোত-কপোতীর। তারপর তাদের আর দেখা হয় না। হয়ত এরমধ্যেই ফুরিয়ে গেছে তাদের সব লেনদেন। শুধু ফুরোয় না মানুষের। সেখানে ছল থাকে বারবার ফিরে আসবার তাড়না থাকে। নিয়ম মেনে চলবার জীবনেও উটকো বায়না থাকে। শরীরের স্বাদ ভিন্নই হবে। নয়তো ওই মেয়েটির যদি যোনী কিংবা স্তন না থাকতো তাহলে ছেলেটির কি আর মেয়েটিকে নিয়ে মুখ ফসকে বলা এত এত স্বপ্ন থাকতো?

প্রেম যোনীময় প্রেম স্তনময় প্রেম যৌনতার পরিণতিতে একটা ছল মাত্র। রাস্তা ঘাটে মাঠে পার্কে দোকানে অলিতে গলিতে বাড়িতে আকাশে বাতাসে একটা প্রেম প্রেম খেলা। কঙ্গনার নাকে যৌনতার তীব্র গন্ধ আসে। হাসপাতালের ফিনাইলের মতোই সে গন্ধ শহরময় ছড়িয়ে আছে। সে গন্ধে শরীরের ভেতরকার সব বিভাজ্য অবিভাজ্য উগলে আসতে চাইছে। এই অবস্থানটি বুঝে গেছে আশপাশ। ওই আশপাশ অতিক্রম করার আগেই তাকিয়ে থাকা সব চোখ তার কোটর থেকে বেরিয়ে আসছে কঙ্গনার দিকে। চোখগুলো তার স্তন তার ওষ্ঠ বাহু গ্রীবা জড়িয়ে ধরেছে। কঙ্গনা চিৎকার করে উঠে। সে চিৎকারের কোনও শব্দ নেই। কেবল বুকের ভেতর এক বুক নীলের মধ্যে তা প্রতিধ্বনি করে বার বার বলে উঠছে, ওই থাম!

ওই থাম…

মেহেদী হাসান স্বাধীন’র উপন্যাস “মাতাল পৃথিবী” বাংলা ভাষাভাষী সব বোকা মানুষের জন্য ধারাবাহিক ভাবে বোকাবিডিতে প্রকাশিত হবে।- বোকা সম্পাদক

3 thoughts on “মাতাল পৃথিবী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *