জেতার রেইসে মরে জীবন

Spread the love
Reading Time: 3 minutes

জীবনকে একটা ট্র্যাকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে দৌড়াতে শুরু করো। দেখবে তুমি ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছো। তোমার এই পিছিয়ে পড়াটাকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য করছে পুঁজিবাদি আগ্রাসী মস্তিষ্ক। তোমাকে ফাঁদে ফেলছে দালাল। বিষয়টা হলো তুমি নিজেই ক্রমশ জড়িয়ে যাচ্ছো জালে। কারণ তুমি দৌড়ের ট্র্যাকে দাঁড়িয়ে পড়েছিলে। জড়িয়ে পড়েছিলে সভ্যতার উদ্ভট জালে। তোমার- জেতার রেইসে জীবন এখন!

অথচ তুমি সেই ভ্রূণাবস্থা থেকেই রেইসে ছিলে। তুমি একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে জীবনের খুব কাছাকাছি যাচ্ছিলে।

মাঝখানে হঠাৎই তোমার কাছে এলো জেতার আহ্বান। জেতার জন্য কতো বইপত্তর বেরিয়ে গেল, প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটলো। কতো কৌশলে আজ তোমাকে জেতার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। আসলে তুমি কিসের জন্য লড়ছো? কার বিরুদ্ধে লড়ছো? এই লড়াইটার জন্যই কি তুমি জীবন প্রদীপ জ্বালো?

তোমাকে জেতাতে কতো মন্ত্রণা; কতো কারিগরি।

আদতে তুমি কি জিতে যাচ্ছো? তোমার কি জেতার কথা ছিল?

না, না এবং না।

আমি কোনো লড়াইয়ের জন্য জন্মাইনি। এই ভরা যৌবনা পৃথিবীর প্রতিটি বাঁকে বাঁকে আমি হাঁটবার জন্য এসেছি। মিলতে এসেছি কোটি প্রাণের স্পন্দনে। আঙুলে আঙুল জড়িয়ে আমি ভাগাভাগি করতে এসেছি জীবন।

আমার প্রয়োজন নেই প্রাচুর্য, অর্থ, বিত্ত-বৈভব।

তাহলে আমি কি বাঁচবো না?

বাঁচবার জন্য কি খুব প্রয়োজন হঠকারী সমাজের প্রতিনিধিত্ব করা? নাকি একটা উপভোগ্য সুন্দর সরল জীবনকে খুঁজে পাওয়া? বরষা মুখর এক সন্ধ্যায় সারিন্দা বাজিয়ে গান গাইছে কিষাণ। ছেলেপুলে সব মাতোয়ারা জীবনের বিষ্ময় নিয়ে। কিষাণীর মমতা মাখা দুমুঠো খৈ আর এক আজলা জল বিশুদ্ধ এ ভালোবাসার জীবন থেকে তোমার জীবন বড় হতে পারে না হে নার্সিসাস জীবন। খুব সামনের জীবন নিয়ে ওদের কোনো দুঃশ্চিন্তা ছিল না। অথচ আজ ওরা গান গায় না। সামনের দুর্দিনের যে দুঃশ্চিন্তা তোমরা ঢুকিয়ে দিয়েছো ওদের মগজে তাই নিয়ে ওরা ভুলে গেছে হাসতে, ভুলে গেছে উপভোগ করতে। আসলে তোমরা যতোটা সমাজকে এগিয়ে নেয়ার দাবী করছো- আমি ঠিক তোমরা ততোটাই সমাজকে পিছিয়ে দিয়েছো এই দাবী করছি।

 

কয়েক কিস্তিতে লেখাটি প্রাকিশত হবে। প্রথম কিস্তি প্রকাশিত হলো।

মেহেদী হাসান স্বাধীন

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *